আমাদের আজকের গল্প..
একজন সফল ডাক্তারকে নিয়ে ।
ওনার অ্যাপারমেন্ট পেতে হলে মাঝে মাঝে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় রোগীদেরকে।
খুবই ব্যস্ত থাকেন তিনি ,
ওনাকেই প্রায়ই প্লেনে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যেতে হয় চিকিৎসার কাজে।
একদিন তিনি প্লেনে করে যাচ্ছিলেন। হটাৎ করেই ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল সারা আকাশ। বজ্রপাত বৃষ্টি এবং ঝড়ে হাওয়া শুরু হলো। তখন হঠাৎ করেই প্লেনের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলো এবং সেখানে কোন এক এয়ারপোর্টে প্লেন ল্যান্ড করতে হল।
যে এয়ারপোর্টে প্লেন নামল, তা ছিল শহর থেকে অনেক দূরে । এবং সাথে সাথে ইঞ্জিন ঠিক করার মত দক্ষ কারিগর ওইখানে ছিল না । অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না।
কিন্তু তাঁর জরুরী কাজ ছিল সেখানে,
সেখানে তার পৌঁছানো ছিল জরুরী।
তিনি ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করলেন,
কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে ?? "
ক্যাপ্টেন বললেন, "ঠিক বলা যাচ্ছে না।
কিন্তু অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে ?
তিনি বললে, " কিন্তু আমার তো সেখানে পৌঁছানে খুব দরকার ।
"ক্যাপ্টেন বললেন, "
তাহলে আপনি গাড়ি করে চলে যান না কেন ?
এখান থেকে মাত্র তিন ঘন্টার রাস্তা "।
এছাড়া আর কোন উপায় নেই ।
তাই তিনি গাড়ি করেই রওনা দিলেন।
কিছুদূর যাওয়ার পর আবার সেই ঘম কাল মেঘ, বৃষ্টি আর ঝড় শুরু হয়ে গেল। যেহেতু গ্রামের মাঠির রাস্তা, তাই বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি নিয়ে এগিয়েই যাওয়া সম্ভব ছিলনা, কারণ কাদার মধ্যে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছিল বারবার ।
তখন তিনি সামনে একটি বাড়ি দেখলেন। তিনি ঠিক করলেন বৃষ্টি থামার আগ পর্যন্ত ওই বাড়িতেই আশ্রয় নিবেন।
তিনি চিন্তা করলেন যদি ওই বাড়িতে আশ্রয় পাওয়া যায় তাহলে তিনি নামাজ আদায় করতে পারবেন। তিনি ওই বাড়িতে গেলেন এবং দরজায় কড়া নারলেন।
এক বৃদ্ধা দরজা খুললেন এবং তাকে ভিতরে আসতে বললেন।
তিনি বৃদ্ধাকে তার পরিস্থিতি বললেন এবং নামাজ পড়ার অনুমতি চাইলেন । বৃদ্ধা তাকে ভিতরে আসতে বললেন।
ভিতরের রুমে একটি নামাজের পাটি ছিল এবং তার পাশে একটি ছোট্ট ছেলে ঘুমিয়ে ছিল।
একটু পর পর বৃদ্ধা ছেলেটির পাশে এসে দেখে যেতেন ছেলেটি কেমন আছে, এবং তার পাশে বসে বসে দোয়া করতেন।
বেশ কিছুক্ষন পর ডাক্তার বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলেন, " ছেলেটির কি হয়েছে "?
বৃদ্ধা বললেন, " ছেলেটির মা বাবা কেউ নেই, আমি ওর নানী, ছেলেটি খুবই অসুস্থ। গ্রামের সব ডাক্তারকে দেখিয়েছি, কিন্তু কেউ ওর অসুখ ধরতে পারছে না । এক ডাক্তার বলেছে শহরের এক নামকরা ডাক্তার আছে উনি হয়তো ছেলেটিকে সুস্থ করতে পারবেন ।
আমি অনেক চেষ্টা করেছি সেই ডাক্তারের এ্যাপারমেন্ট নেবার জন্য, কিন্তু তারা বলেছে ৬ মাসপর যোগাযোগ করার জন্য, ৬ মাসের আগে তার সাক্ষাত পাওয়া নাকি সম্ভব না।
সেই দিন থেকে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি,
হে আল্লাহ, আমাদের জন্য সহজ করে দাও।
হে আল্লাহ, আমাদের সাহায্যে করে ছেলেটির খুব কষ্ট হচ্ছে।
তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
"সেই ডাক্তারের নাম কি "?
বৃদ্ধা জবাবে বললে,, " ডাক্তার শামিম আরাফাত ",
এই কথা শুনে ডাক্তার কাঁদতে শুরু করলেন।
বৃদ্ধা অবাক হয়ে, তাকে জিজ্ঞেস করলেন, " আপনি কেন কাঁদছেন "?
ক্রন্দনরত অবস্থায় তিনি জবাব দিলেন, "
আপনার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন।
শুধু আপনার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন বলেই, এই ঝর বৃষ্টি এসে আমাদের প্লেনকে থামিয়ে দিলো এবং আমাকে আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছে । আর আপনাকে প্রশ্ন করার সাথে সাথে ঝর ও থেমে গেছে,
ডাক্তারের কথা শুনে বৃদ্ধাও কাঁদতে শুরু করলেন।
এই কাহিনী এক আলেমের কাছে বলার পর, ডাক্তার শামিম আরাফাত বললেন, সেদিন আমি শিখেছি আল্লাহ যার ভালো চান, তার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তিনি তা করেন "
অবশেষে ডাক্তার ছেলেটির চিকিৎসা করেন ।
নিশ্চয়ই আমাদের সামনে এমন কোনও কিছু অপেক্ষা করছে যা জীবনটাকেই বদলে দেবে।সবসময় সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের অপেক্ষায় থাকা উচিত।

0 Comments