[] কেউ কোনো ইবাদতের কথা বললে আমরা প্রথমেই বলি, ভাই, সময় পাই না।
আমিও বলি। নিজেকেও এটা বুঝ দিই যে সময় পাচ্ছি না। সময় পাই না তাই আমাদের কুরআন তিলাওয়াত হয় না। আমাদের ইলম অর্জন হয় না।
আমাদের দ্বীনি ও দাওয়াতি কাজ পিছিয়ে যায়।
ইবাদতের ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো আমাদের এই অভ্যাস। খুব অদ্ভুত কোনো কারণে আমরা মনে করি, আমরা ইবাদত করে আল্লাহকে কিছু দিয়ে দিচ্ছি৷ কোনো ফেভার দিচ্ছি এরকম একটা আচরণ আমাদের।
যেন দায়টা আমাদের না, আল্লাহর।
আস্তাগফিরুল্লাহ! কী বলছি এসব, তাইনা ?
কিন্তু আমাদের কথাবার্তা অনেকটা এমনই।
আল্লাহ কেন এত নিয়ম-কানুন দিয়ে দিলো ?
কম বয়সেই এতকিছু করার কী দরকার ? সবকিছুই কি মানতে হবে নাকি ? যেন ঠেকাটা আল্লাহর ৷
আল্লাহ আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে ৷ আর আমরা অনুরোধে ঢেঁকি গিলে ইবাদত করছি!
আর ভাবছি নামাজটা কয়েক ওয়াক্ত কম হলো না কেন, কুরআন পড়ার দরকারটা কী, ইসলামি বই পড়ে আদৌ কী লাভ আছে!
সুদ নেয়া যাবে না, হিজাব করতে হবে, সেজেগুজে বিয়েবাড়িতে যাওয়া যাবে না, ছেলেমেয়ে বন্ধু হওয়া যাবে না-- এত বাধা-নিষেধ, এত নিয়ম-কানুন আমাদের অসহ্য লাগে।
আল্লাহর বেধেঁ দেয়া সীমানা আমাদের বাড়াবাড়ি মনে হয়।
কিন্তু যদি আমরা এভাবে দেখতে পারতাম যে প্রয়োজনটা আমাদের! যদি এভাবে ভাবতে পারতাম যে আমাদের জীবনে আল্লাহকে কত দরকার। যদি এভাবে অনুভব করতে পারতাম আমরা কত নিরুপায়, অসহায়!
তাহলে আর নামাজকে আমাদের বোঝা মনে হতো না।
হিজাব মানতে দ্বিধা হতো না।
সুদ ছেড়ে দিতে কষ্ট হতো না...
ইশ, যদি আমরা বুঝতাম আল্লাহ আমাদের কত করুণায়, কত মমতায় আগলে রেখেছেন।
প্রত্যেক শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের ফুসফুসকে নির্মল বাতাসের যোগান দিচ্ছেন।
কত অপমান, লাঞ্চনা, কত অজানা বিপদ থেকে নিরাপদ রেখেছেন বান্দাকে।
একটু বুঝতেও দেননি।
কত পরীক্ষায় বান্দাকে ফেলেনইনি,
কারণ বান্দা সেই পরীক্ষায় পাশ করতে পারত না৷
কী দয়া, কী ভালোবাসা, কী রহমা আল্লাহর বান্দার প্রতি৷
আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাওয়ার দায়টা আমাদের।
আল্লাহর না৷
যদি বুঝতাম, তাহলে আমরাই স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ছুটে যেতাম.. কাউকে মনেও করিয়ে দেয়া লাগত না।
#এই নিয়ম-কানুন, বিধিবিধানকে মেনে নিয়েও মনে হতো, আরও কিছু কি করতে পারি ?
#আর কীভাবে কাজ করলে আল্লাহকে খুশি করা যাবে ?
#আরও কত সুন্দরভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যাবে ?
যখন আপনি বুঝবেন আপনার জীবনে আল্লাহর স্থানটা অপশনাল ফোর্থ সাবজেক্ট না৷
আপনার জীবনে আল্লাহ হলেন সহায়, আশ্রয়, আপনার প্রয়োজন।
তখন আপনিই আল্লাহর জন্য সময় খুঁজে নেবেন।
ভীষণ ব্যস্ততাতেও সময় করে নেবেন।
কারণ প্রয়োজনটা আপনার।
চাকরির তদবির করার জন্য যে আংকেলটাকে দরকার, তার জন্য যেমন আমরা সময় শত ঝামেলার মাঝেও সময় খুঁজে নিই, ভালোবাসার মানুষটার সাথে কথা বলার জন্য যেমন আমাদের কখনও সময়ের অভাব হয় না, তেমনি ইবাদতের জন্যেও আমাদের ফুরসত হয়ে যাবে। কোনো কিছুকে একটুও অতিরিক্ত মনে হবে না।
কোনো কাজে একটুও বিরক্তি আসবে না।
শুধু বুঝতে হবে, প্রয়োজনটা আল্লাহর না আপনার।
(আল্লাহ সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন)




0 Comments