ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট কিভাবে হলেন অ্যান্দ্রে রাসেল!



উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে খুলনা টাইগার্স কে ২১ রানে পরাজিত করে প্রথমবারের মত বিপিলের শিরোপা ঘরে তুলে নিয়েছে রাজশাহী রয়্যালস।



 দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের মত ফাইনাল ম্যাচের জয়ের নায়কও রয়্যালস দলনেতা অ্যান্দ্রে রাসেল। ম্যান অফ দ্যা ফাইনালের পাশাপাশি ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছেন অ্যান্দ্রে রাসেল।

বিপিএলের ৭ম আসরে এসে প্রথমবারের মত দেশবাসী দেখল দেশীয় ক্রিকেটারদের সম্মিলিত পারফর্মেন্স। ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে বিদেশী ক্রিকেটারদের চেয়ে দেশী ক্রিকেটারদের পারফর্মেন্স চোখ ধাঁধানো। সেরা ১০ রান সংগ্রাহকের ভিতরে ৭ জনই দেশী। আবার ১০-এ ৫ জনই দেশী বোলার।


এত ভালো পারফর্মেন্স করার পরেও ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট পুরষ্কার জিতেছেন রয়্যালস অধিনায়ক অ্যান্দ্রে রাসেল। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট কিভাবে হলেন অ্যান্দ্রে রাসেল!

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রাইলি রুশো (৪৯৫)। তার পরের নামটিই খুলনা টাইগার্স দলনেতা মুশফিকুর রহিমের (৪৯১)। মূলত খুলনা টাইগার্স কে একাই টেনে নিয়ে এসেছিলেন মুশফিক। তাই অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট পুরষ্কারটা হয়ত মুশফিকই পাবেন। কিন্তু সেটা হয়নি।

রাইলি রুশো, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, শোয়েব মালিকদের মত এই পুরস্কারের দাবিদার ছিলেন অনেকটা রবি ফ্রাইলিংক ও সৌম্য সরকারও (পরিসংখ্যান মতে)। তবে বিপিএল কমিটি সেটা তুলে দিয়েছেন অ্যান্দ্রে রাসেলেরই হাতে। তার অবশ্য একটা নয় অনেকটাই কারন আছে। তাহলে একটু হিসাব কষা যাক।

ইমরুল কায়েস, রাইলি রুশো, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, শোয়েব মালিকেরা লীগ পর্বে ভাল খেলেছেন এটা মানতেই হবে। তাদের কল্যানেই তাদের দল প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল। তবে প্লে-অফ থেকে ফাইনালে যাওয়ার বেলায় তারা তাদের দলকে সেইভাবে সাপোর্ট দিতে পারেনি। ১ম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ম্যাচ জিতিয়েছেন মোহাম্মদ আমির (ব্যাট হাতে নাজমুল হোসাইন শান্তও করেছেন ৭৮* রান)।

২য় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে খাদের কিনারা থেকে মহাকাব্যিক এক ইনিংস (২২ বলে ৫৪* রান) খেলে দলকে ফাইনালে তুলেছেন দলনেতা অ্যান্দ্রে রাসেল। এখানে ব্যর্থ শোয়েব মালিক (আফিফ-লিটনও)। আবার ফাইনাল ম্যাচে কিছুই করতে পারেননি শোয়েব মালিক, মুশফিকুর রহিম, রবি ফ্রাইলিংকরা। কাজের কাজ ওই অ্যান্দ্রে রাসেলকেই করতে হয়েছে।

প্লে-অফে এসে একাই দলকে তুলেছেন ফাইনালে এবং জিতিয়েছেন শিরোপাও।

 লীগ পর্বেও যে একেবারে খারাপ খেলেছেন তাও নয়। ব্যাটে-বলে যখনই সুযোগ পেয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ১৩ ম্যাচ খেলে ১১ ইনিংসে ৫৬.২৫ গড়ে ২২৫ রান করেছেন। ৭টি ম্যাচে ছিলেন অপরাজিত। বিপিএলে ৩য় সর্বোচ্চ ২১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। কমপক্ষে ১০০ বল খেলা ব্যাটসম্যানদের ভিতরে সর্বোচ্চ ১৮০ স্ট্রাইক রটে রান তুলেছেন রাসেল। বলে হাতে দলের সর্বোচ্চ ১৪টি উইকেট শিকারও করেছেন (মোহাম্মদ ইরফানের সাথে যৌথভাবে)।

টুর্নামেন্টে ৩ বার ম্যাচসেরা পুরষ্কারের পাশাপাশি প্রথম বিদেশী অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলে শিরোপা জিতে রেকর্ডও গড়েছেন। তিনি না জ্বলে উঠলে রাজশাহীর শিরোপা জয়ের স্বপপ্নটা অধরাই থেকে যেত। এজন্যই তিনি হয়েছেন ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট।

খেলোয়াড়ের নাম
রান
উইকেট
ক্যা্চ/স্ট্যাম্পিং
ম্যাচসেরা
পয়েন্ট
অ্যান্দ্রে রাসেল
২২৫
১৪
১০
৭৫৫
শোয়েব মালিক
৪৫৫
৬৯৫
মুশফিকুর রহিম
৪৯১
নাই
৬৮১
রাইলি রুশো
৪৯৫
১১
৬৫৬
রবি ফ্রাইলিংক
১৩৩
২০
৬১১
সৌম্য সরকার
৩৩১
১২
৫৯১

এখানে প্রতিটি রান বাবদে ১ পয়েন্ট, উইকেটের বিনিময়ে ২০ পয়েন্ট, ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং বাবদ ১০ পয়েন্ট এবং টুর্নামেন্টে ম্যাচসেরা বাবদ ৫০ পয়েন্ট হিসাব করে মোট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে।


উক্ত টেবিলের হিসাব অনুযায়ী নিঃসন্দেহে এই বিপিএলে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট এর দাবিদার অ্যান্দ্রে রাসেল। আর সেটাই হয়েছে। এখানে যদি ম্যাচসেরা পুরষ্কার ধরা হয় তাহলেও রাসেল এগিয়ে থাকবেন। ৭৫৫ পয়েন্ট নিয়ে রাসেল সবার উপরে। তাছাড়া দুইয়ে শোয়েব মালিক ৬৯৫, মুশফিকুর রহিমের পয়েন্ট মাত্র ৬৮১।





Post a Comment

0 Comments